এমপিদের নাম ব্যবহার করে চাঁদা আদায় করতেন তারা

Spread the love

রাউজানের সংসদ সদস্য (এমপি) এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীসহ একাধিক সংসদ সদস্যের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগে পটিয়া আসনের এমপি ও জাতীয় সংসদের হুইপ শামসুল হক চৌধুরীর চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরের বাসার সাবেক গৃহকর্মী এহেছানুল হকসহ প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে রাউজান থানা পুলিশ।

আজ সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেপায়েত উল্লাহ।

তিনি জানান, গতকাল রোববার রাতে রাউজানের কাগতিয়া এলাকায় রাউজানের এমপির পিএস পরিচয় দিলে স্থানীয়রা আটক করে থানায় খবর দিলে পুলিশ সেখানে গিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—পটিয়া থানার শোভনদন্ডী ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জাফর আহমেদের ছেলে মো. এহসানুল হক (২৬), চন্দনাইশ থানার কঞ্চনপুর ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে মো. নুরুল আলম প্রকাশ সুমন (৪০) ও তার স্ত্রী তারানা নাজ শবনব (৩৮)।

ওসি জানান, তাদের কাছ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা, সিমকার্ডসহ তিনটি মোবাইল সেট ও ২০০ পিস ইয়াবা জব্দ করে পুলিশ। প্রতারণায় ব্যবহৃত একাধিক বিকাশ একাউন্টের তথ্য পেয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

কেপায়েত উল্লাহ জানান, রাউজানের সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীসহ একাধিক সংসদ সদস্যের নামে তারা চাঁদা আদায় করেন। এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর নাম ভাঙিয়ে আটজনের অধিক বিশিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করেন। এরমধ্যে টাকার জন্য ফেনির হাজারী, ফেনির ছাগালনাইয়ার এমপি শিরিন, সোনাগাজীর এমপি মেজর জেনারেল নাসের, সোনারগাও উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতিকে, রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগকে, লোহাগাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান, চন্দনাইশের থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদকে ফোন দিয়ে চাঁদা দাবি করেন। অনেকে টাকা দিলেও লজ্জার কারণে বলছে না।

ওসি জানান, টাকা নেওয়া হতো বিকাশের মাধ্যমে। উত্তোলন করতেন আটক তারানা নাজ শবনব (৩৮)। এহেসানুল হক পটিয়ার সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ শামসুল হক চৌধুরীর বাসার গৃহকর্মী হিসেবে বাজার করতেন। ৩/৪ বছর আগে তাকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে প্রতারণা চালিয়ে আসছে বলে স্বীকার করেছে এহেছানুল হক।

ওসি কেপায়েত উল্লাহ আরও জানান, সংসদ সদস্যদের টার্গেট করে তাদের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করে। কখনো এপিএস, কখনো এমপি পরিচয় দিয়ে চাঁদা নিতো। তারা সিলেট, ময়মনসিংহ, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলাসহ চট্টগ্রামের একাধিক সংসদ সদস্যের নামে চাঁদা আদায় করেন। আটক তিনজন একে অপরের আত্মীয়।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, প্রতারক এহসানের বিরুদ্ধে একাধিক থানায় মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Add Comment